ধর্ষণের চিত্রনাট্য ও সামাজিক মূল্যবোধ — একটি আলোচনা

অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়

ধর্ষণের সামাজিক চিত্রনাট্য

ধর্ষণের একটি সামাজিক চিত্রকল্প আছে যেখানে পরাক্রান্ত দুর্বৃত্ত, অপাপবিদ্ধা তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এই চিত্রকল্পে মেয়েটি সুন্দরী এবং প্যাসিভ। (খেয়াল রাখার বিষয় প্রেমের সামাজিক চিত্রকল্পও কিন্তু একই রকম – মেয়েটি সুন্দরী ও প্যাসিভ। প্রেম ও ধর্ষণের সামাজিক চিত্রকল্পে পার্থক্য একটাই – প্রেমে মেয়েটির না কোন একসময়ে হ্যাঁ হয়ে যায়, ধর্ষণে সেটা হয় না। তাই প্রেম করে নায়ক, ধর্ষণ করে ভিলেন!) ধর্ষণ, তার সংজ্ঞাতেই অনিচ্ছুক, বাধ্যতামূলক যৌনতা। তাই বলপ্রয়োগ সেখানে থাকবেই। কিন্তু সমাজ যেভাবে দেখায় সেভাবে কি? সমাজে প্রচলিত চিত্রনাট্যে ধর্ষকরা হিন্দি ছবির প্রেম চোপড়া বা শক্তি কাপুরের মত, যারা জোর করে নায়িকাকে তুলে নিয়ে যায়, আটকে রাখে, ধর্ষণ করে। একভাবে দেখলে এই চিত্রকল্পটি ফিউডাল – যেখানে জমির সাথে সাথে প্রজাদের শরীরের অধিকারও জমিদারের। ধর্ষণের এই চিত্রনাট্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একমাত্র এই চিত্রনাট্য মেনে ধর্ষণ হলেই তবেই মেয়েটি সমাজের সহানুভুতি পায়। আর তারই ছলনে ভুলে মিডিয়া’র প্রতিবেদন, ধর্ষিতা ও তার পরিবারের বয়ানও এই চিত্রনাট্যের সামনে আত্মসমর্পণ করে ।

গল্প হলেও সত্যি না

কিন্তু বাস্তবে যখন ধর্ষণ হয় তা কি সত্যি এই চিত্রনাট্যর সাথে মিলিয়ে হয়? প্রথমে চোখ রাখা যাক কিছু পরিসংখ্যানে। ২০১৬’র জাতীয় অপরাধ পরিসংখ্যান সংস্থার (National Crime Records Bureau or NCRB) তথ্য থেকে জানা যায় যে ধর্ষণের ঘটনার ৯৪% ই হয় মেয়েটির চেনা লোকেদের দ্বারা। নিচের পাই চিত্রে এই বিষয়টিই দেখানো হল।

এবার চেনা লোকেদেরও একটা বড় অংশ আসে আত্মীয় এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে থেকে। মোট চেনা ধর্ষকদের ৪০% ই আত্মীয় বা প্রতিবেশী। অন্য চেনা লোকেদের মধ্যে ঠিক কারা আছে তা NCRB প্রকাশ না করলেও বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মীরা এই তালিকায় আছে তা নিশ্চিত বলা যায়। কিন্তু একটা কথা এই পরিসংখ্যান থেকে পরিষ্কার আর তা হল, ফিল্মি চিত্রনাট্য মেনে বেশিরভাগ ধর্ষণই হয় না, ধর্ষণকারীরাও কোন চম্বল উপত্যকার ডাকাত নয়। তাদের বেশিরভাগই আমাদের চারপাশের চেনা মানুষ যাদের মেয়েরা বিশ্বাস করে, নির্ভর করে এবং কোন সময় প্রতারিত হয়। তাই বলপ্রয়োগের থেকেও বেশি যা আছে তা হল ছলচাতুরি বা প্রতারণা। কিন্তু ধর্ষণের মাচো চিত্রনাট্যে সে কথা না বলাই থেকে যায়। এই যে না বলা তা কিন্তু ধর্ষণ প্রতিরোধী নীতিকে ভুল ভাবে প্রভাবিত করে। যদি অচেনা দুর্বৃত্ত এসে কোন মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় তাহলে রাস্তায় পুলিশ বাড়িয়ে তার প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু যে ধর্ষণ প্রতিনিয়ত মিথ্যে কথা, চতুরতা আর প্রতারণার মাধ্যমে হয়, রাস্তায় পুলিশ বাড়িয়ে তা আটকানো সম্ভব না। কিন্তু ধর্ষণের চিত্রনাট্য এই চতুরতার খেলাকে উপেক্ষা করে, কারণ পুরুষতন্ত্রে ধর্ষণকারীর মত, উদ্ধারকারীও এক মাচো পুরুষ।

কিছু স্থানীয় সংবাদ

পরিসংখ্যান সামগ্রিক, তাই শীতল ও নৈর্ব্যক্তিক। বিষয়ের গভীরে ঢোকার জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তি পরিসরের জটিলতা। তাই কিছু প্রতিবেদন, কিছু ব্যক্তিগত বয়ানে চোখ রাখা আবশ্যক। উদাহরণস্বরূপ নেওয়া যেতে পারে ২০১৮’র ২৮শে অগস্টের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত খবরটি । হাবড়ার ঊনিশ বছরের একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে লোকলজ্জায় অ্যাসিড খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মারাত্মক ভাবে জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার জবানবন্দি থেকে জানা যায়, বাপন ও ভাস্কর নামে দুই যুবক তাকে ধর্ষণ করে কিন্তু রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নয়। বাপনের সাথে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল যা থেকে মেয়েটি বেরিয়ে আসতে চাইছিল। বাপন তাকে জরুরি দরকারের নাম করে ডাকে ও ধর্ষণ করে। ভাস্করও মেয়েটির পূর্বপরিচিত। মেয়েটি ভাস্করের বাড়ি গেছিল যেখানে ভাস্কর তাকে ধর্ষণ করে ও সেই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। খেয়াল করার বিষয় যে মেয়েটি কিন্তু স্বেচ্ছায় ভাস্কর ও বাপনের সঙ্গে দেখা করেছিল, বলপ্রয়োগের বিষয়টি ঘটে তারপরে। এই প্রতিবেদনটি কিন্তু কোন ব্যতিক্রমী প্রতিবেদন নয়, খবরের কাগজের পাতায় চোখ রাখলে দেখবেন ধর্ষণের যে সব খবর বেরোয় তার প্রায় সবই এরকম। বরং দিল্লিতে ঘটে যাওয়া নির্ভয়া’র ঘটনাটিই ব্যতিক্রম, যেখানে সম্পূর্ণ অপরিচিত বাস ড্রাইভার ও খালাসি মেয়েটির ওপর নৃশংস নির্যাতন চালায়। কিন্ত, সেই ঘটনা যে অনেক বেশি মিডিয়া মনোযোগ টেনে নিল তার একটা কারণ এই ঘটনা ধর্ষণের সামাজিক চিত্রনাট্যর সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। একই রকম নৃশংস রোহতক এর গণধর্ষণের ঘটনা কিন্তু সেরকম ঝড় তুলতে পারেনি যা নির্ভয়া তুলেছিল। নির্ভয়া’র ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১২ তে, তা নিয়ে গুগলে খুঁজলে দেখা যাবে, এখনও, ছয় বছর পরেও তা নিয়ে কোন কোন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে চলেছে। একই রকম নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে রোহতক এ, ২০১৭’র ১৪ই মে। গুগল খুঁজলে দেখবেন, ২৩শে মে, ২০১৭ এর পরে এই নিয়ে আর কোন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। নৃশংসতার মোডাস অপারেন্ডিতে দুটি ঘটনার মধ্যে কোন পার্থক্য না থাকলেও রোহতকের মূল আসামি মেয়েটির পূর্বপরিচিত — সে মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়। সে মেয়েটিকে গাড়িতে করে নিয়ে যায় অপরাধের জায়গায়, হয়ত পূর্বপরিচিত বলে মেয়েটি নিজেই ওঠে গাড়িতে। তারপর তাকে কোন মাদক বা মদ খাওয়ানো হয় যাতে তার প্রতিরোধ কমে আসে। হয়ত এই পর্যায় অবধিও মেয়েটি বিশ্বাস করেছিল ছেলেটিকে, যদিও নিশ্চিতভাবে তা বলা মুশকিল। কিন্তু নির্ভয়ার মত, সম্পূর্ণ অপরিচিত কেউ তাকে বাসে তুলে অত্যাচার চালায়নি।

#metoo বা নতুন চিত্রনাট্য ক্রমে আসিতেছে

কিন্তু এই মুক্ত কচ্ছ মিডিয়া’র যুগে, যেখানে আন্তর্জালে সমস্ত তথ্যই সহজলভ্য, কিভাবে এই পুরোনো চিত্রনাট্যের মায়া রহিয়া গেল? তার কারণ, পুরুষতন্ত্র জল, মাটি দিয়ে এই চিত্রনাট্যকে লালন করে। ধর্ষণকে বিশুদ্ধ বলপ্রয়োগের ঘটনার পরিবর্তে ছলচাতুরী ও বলপ্রয়োগের সমন্বয় হিসেবে দেখা পুরুষতন্ত্রের চিরলালিত বিশ্বাসকে দু’ভাবে ধাক্কা দেয়। প্রথমতঃ, নারীকে বশে আনতে বলপ্রয়োগের পরিবর্তে মাচো পুরুষ চাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে, এটা পৌরুষের সযত্ন লালিত ধারণার পরিপন্থী – পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তা মেনে নিতে পারে না। দ্বিতীয়তঃ, ছলচাতুরী্র ন্যারেটিভে নারীকে কিছুটা হলেও সক্রিয় ভূমিকা দিতে হয় যা সমাজ লালিত সতীত্বের ধারণায় ধাক্কা দেয়। যেকোন প্রতারণা’র ঘটনায় প্রতারিত ব্যক্তির কিছুটা ভূমিকা থাকে, তা সে চিটফান্ডে টাকা রাখাই হোক বা প্রতারককে ফোনে এটিএম এর পিন বলে দেওয়াই হোক। সাধারণভাবেই সমাজের প্রবণতা থাকে ধর্ষিতা মেয়েটির দিকে দোষারোপের আঙ্গুল তোলার, প্রতারণার চিত্রনাট্যে তা আরো বেড়ে যায়, কারণ প্রতারণার ক্ষেত্রে মেয়েটি সম্পূর্ণ প্যাসিভ থাকে না, অন্ততপক্ষে সে কাউকে বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস এর ভুল কিন্তু কোন জালিয়াতি’র শিকাররাও করে, কিন্তু চিটফান্ড বা ব্যাঙ্ক জালিয়াতি’র শিকারদের প্রতি সমাজ সহানুভুতি দেখালেও ধর্ষিতাদের প্রতি সে নির্মম। আসলে যৌনতায় যে কোন মেয়ে সক্রিয় হতে পারে, এই ধারণাটাকেই সমাজ স্বীকৃতি দেয় না। এই সামাজিক মূল্যবোধের জন্য সংবাদ প্রতিবেদন থেকে ধর্ষিতাদের বয়ান – সবকিছুতেই, যেকোন ধর্ষণের ঘটনাকে (যার বেশীরভাগই আসলে প্রতারণামূলক) বলপ্রয়োগের ন্যারেটিভ কাঠামোতে আঁটিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা সমগ্র ঘটনায় মেয়েটির ভূমিকা প্রায় মুছে দেয়।

যেহেতু সংবাদমাধ্যম ধর্ষণের ঘটনার সঠিক উপস্থাপন করে না, তাই তা বোঝার আরেকটা উপায় নিগৃহীতা’র বয়ান যা আমাদের সামনে এনে দিয়েছে সাম্প্রতিককালের #metoo আন্দোলন যেখানে অনেক ধর্ষিতাই মুখ খুলছেন তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে। সেই বয়ানগুলি থেকে খুব স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসছে ধর্ষণের ঘটনাক্রম এবং তারমধ্যে বলপ্রয়োগ ও প্রতারণার আপেক্ষিক গুরুত্ব। আমরা এখানে চোখ রাখব এরকমই একটি বয়ানের দিকে যা জানিয়েছেন টিভি সঞ্চালিকা পদ্মালক্ষ্মী। ৪৮ বছরের পদ্মালক্ষ্মী জানিয়েছেন ৩০ বছর আগের এক ঘটনার কথা যখন এক রাতে তাঁর ঘুম ভেঙ্গে যায় নিজের শরীরের উপর আরেকটি শরীরের চাপে। সেই শরীরটি সেই মানুষটির যার সাথে তিনি তখন ডেট করছিলেন। ১৮ বছরের পদ্মালক্ষ্মী আপত্তি জানান, সেই মানুষটি আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, একটু ব্যথা লাগবে, তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে। এই ঘটনাটি যে ধর্ষণ এটা বুঝতেই পদ্মালক্ষ্মীর অনেক সময় লেগেছিল কারণ ৮০’র দশকে ডেট-রেপ এর মত শব্দবন্ধ আসেনি। তাই তিনি কোথাও কোন অভি্যোগ জানান নি – পুলিশে নয়, এমনকি বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন কারো কাছেই নয়। পদ্মালক্ষ্মী আরও জানিয়েছেন যে এই ঘটনার পরে তাঁর নিজেকেই দোষী মনে হচ্ছিল।

পদ্মালক্ষ্মীর এই বিবৃতি যে পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি বেশ কিছু মহিলা অভি্যোগ এনেছেন যে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কাভানা তাঁদের যৌন হেনস্থা করেন ১৯৮০’র দশকে। বিচারপতি কাভানা’র পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট করেন এই বলে যে সত্যিই যদি কাভানা হেনস্থা করে থাকেন তাহলে ৩০ বছর আগেই এই সব মহিলারা অভিযোগ জানালেন না কেন! নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে পদ্মালক্ষ্মী বোঝাতে চেয়েছেন কেন ঘটনা ঘটার পরেই জানানো যায় না সবসময়, কেন অনেক সময় লেগে যায় এটা বুঝতে যে এটা ধর্ষণেরই ঘটনা ছিল। আসলে ধর্ষণের পৌরুষবাচক চিত্রনাট্য যে চিন্তাকাঠামো নির্মাণ করে তা অনেক ধর্ষণকে ধর্ষণ বলে বুঝতে দেয় না। তা নির্যাতিতাকে এটাই ভাবতে বাধ্য করে যে সে নিজেই দোষী আর তাই অভিযোগ জানানোর কথা ভাবতে পারে না সে। কখনো চুপ থাকে তিরিশ বছর আর কখনো মধ্যমগ্রামের মেয়েটির মত আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

অতঃপর (পেন্সিল ছাড়া) হাতে যা রইল

ধর্ষণ তাই সমাজের চিত্রনাট্য মেনে হয়না প্রায় কখনই — মেয়েদের পোশাক দেখে হঠাৎ উত্তেজনায় কোন অচেনা দুর্বৃত্ত ধর্ষণ করেনা। বরং আক্রমণ আসে চেনা লোক, আত্মীয়, বন্ধু, প্রেমিকের কাছ থেকে এবং শারিরীক শক্তি’র থেকেও প্রধান হয়ে দাঁড়ায় ছলচাতুরী আর প্রতারণা। এই সত্য আমরা যতক্ষণ না মেনে নিচ্ছি ততক্ষণ ধর্ষণকে প্রতিরোধের উপায়ও আমাদের কাছে অধরা থেকে যাবে। পুলিশ বা আইন-আদালতের উন্নতি নিশ্চয়ই দরকার। কিন্তু শুধুমাত্র থানা-পুলিশ বাড়িয়ে আর ধর্ষণে মৃত্যদণ্ড ধার্য করে এ সমস্যা সমাধান করা যাবে না। (ঠিক যেমন, সাইবার ক্রাইম কমানোর জন্য আরো বেশী পুলিশ নিয়োগ করে লাভ হবে না।) প্রয়োজন নতুন চিত্রনাট্যের প্রচার যাতে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা ধর্ষণ চিনতে শেখে, হলে তা নিয়ে আইনের কাছে যেতে শেখে আর শাস্তির দাবি তুলতে শেখে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
লেখক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ছবি: ইন্টারনেট

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s