ধ্রুবা দাশগুপ্তা

বন্যার নেপথ্যে

ধ্রুবা দাশগুপ্তা

আমাদের দেশের দক্ষিণ- পশ্চিম কোণের রাজ্য কেরল-কে দেশবাসী পর্যটনের স্বর্গরাজ্য বলে চেনে। কেরলের অধিবাসীরা অন্য সব রাজ্যের তুলনায় বেশি সংখ্যায় শিক্ষিত এবং আগুয়ান বলে গণ্য করা হয়। বাস্তবে আর পাঁচটা রাজ্যের মত উন্নয়ন-জড়িত সমস্যা থাকলেও কেরল সমৃদ্ধির রাস্তায় এগিয়ে গিয়েছে, কোনদিন ফিরে তাকায় নি। আপনার আমার মত সাধারণ মানুষ এটাই জানতেন যে প্রকৃতি দেবী কেরলের প্রতি সহৃদয় ছিলেন বলে কেরল যেন অনেক দিক দিয়ে ঈশ্বরের আশীর্বাদ ধন্য রাজ্য ছিল।

মাস দুয়েক আগে আমাদের এই ধারণাগুলো প্রবল ধাক্কা খেল। সুদূর অতীতের ১৯২৪ সালের পর আবার এই ২০১৮ সালে কেরলে আছড়ে পড়ল ভয়াবহ বন্যা – রাজ্যের ১৪ টি জেলার মধ্যে ১৩টিই ক্ষতিগ্রস্ত হল এবং ১৫৬৪টি গ্রামের মধ্যে ৭৭৪টি বন্যার কবলে পড়ল। ১৩ লক্ষ মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন। হিসেব অনুযায়ী সর্বমোট ৯০৬৪ বর্গ কিলমিটার এলাকা জুড়ে চাষীর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯,৫১২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি অনুমান করা হচ্ছে। মানুষ এবং জন্তু-জানোয়ারের দুর্দশার শেষ ছিলনা। বন্যা দুর্গতরা তাদের দুঃসহ যন্ত্রণা এবং মানসিক গ্লানি মনে রাখবে বহুদিন। মনস্তত্ববিদেরা বলেন যে এই অভিজ্ঞতাগুলো খুব সহজে ভোলা যায় না।

হঠাৎই ২০১৫ সালের চেন্নাই-এর কথা মনে পড়ে যায়। ভয়াবহ বন্যা আক্রমণ করেছিল কেরলের প্রতিবেশি রাজ্য তামিলনাডুকে। রাজধানীর নগরজীবন ছিন্নভিন্ন ছিন্ন-ভিন্ন করে দিয়েছিলো। কারণগুলো জানা গিয়েছিলো সত্ত্বর। কিন্তু সেটা তো একটা শহরের কথা, আর এ তো গোটা রাজ্য বন্যার প্রবল পরাক্রমে কাবু! প্রকৃতির এই রোষের কারণ খুঁজতে গেলে কেরলের বর্তমান পরিবেশের পরিস্থিতি বুঝতে হবে তার বিগত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। কেরলের আজ এই অবস্থা কেন হল তার কিছু উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে।

গত ২০১৫ সাল থেকে কেরলে বৃষ্টির মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি হচ্ছে। এই বছর সেটা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি হয়ে ২০৮৬ মিলিমিটারে পৌঁছে যায়, যা সাধারণ গড় বার্ষিক বৃষ্টির থেকে ৩০ শতাংশ বেশি। কিছু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ জুন মাসে সচেতন করা সত্ত্বেও রাজ্যের নদীবাঁধের সম্পর্কে এখনকার প্রশাসনের কোন হেলদোল ছিল না। জুলাই মাস থেকে সাবধান হলে এবং নদীবাঁধ থেকে জল ছাড়ার পরিকল্পনা করে করলে এত দুর্দশাগ্রস্ত হতে হত না। কিন্তু আগস্ট মাসে অবস্থা এমনই দাঁড়াল যা রাজ্যের ৩৯টি নদীবাঁধের মধ্যে ৩৫টির থেকেই জল ছাড়তে হল এবং এই প্রবল জলস্রোত রাজ্যে বিপর্যয় ডেকে আনল। কিন্তু, শুধুই কি অত্যাধিক বৃষ্টি এবং প্রশাসনিক গাফিলতি কেরলের এই দুর্দশার জন্য দায়ী?

গত মার্চ মাসে রাজ্য সভায় একটি প্রশ্নের উত্তরে দেশের জল সম্পদ এবং গঙ্গা পুনরুজ্জীবনের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাংসদদের জানান আমাদের দেশে যে চারটি মূল কারণ বন্যার জন্য দায়ী সেগুলি হল – খুব অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হওয়া, নদীর জল নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে যাওয়া, অপরিকল্পিতভাবে নদীবাঁধের জলাধার নিয়ন্ত্রণ এবং নদীবাঁধের বন্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকাঠামো কাজ না করা। এই সব ক’টিই বিভিন্ন মাত্রায় কেরলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটাও মনে রাখতে হবে যে কেরলের কিছু নদীবাঁধ বেশ পুরানো এবং তাঁদের আয়ু শেষ হবার মুখে। এমন একটি বাঁধ হল মুল্লাপেরিয়ার, যেটা কেরল এবং প্রতিবেশি তামিল নাড়ুর মধ্যে দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য সৃষ্টি করেছে। দুই যুযুধান রাজ্যই এই বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। মামলা চলছে বহুদিন ধরেই।
বাকি যে যে কারণগুলো বন্যার জন্য দায়ী বলে উপরে উল্লিখিত হয়েছে, সেগুলি খতিয়ে দেখা যাক। কেরল ছাড়া এবার আরও তিনটি রাজ্যে অতিবৃষ্টি হয়েছে, এবং গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে মধ্য ভারতে অতিবৃষ্টির প্রকোপ ১৯৫০ সালের থেকে তিন গুণ বেড়ে গিয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, বিশেষ করে বর্ষার পরিবর্তন সম্পর্কে খুব বেশি আগে থেকে পূর্বাভাস দেওয়া খুব শক্ত – কিছু গবেষকের মতে দুই-তিন সপ্তাহের বেশি আগে এই পূর্বাভাস করা সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমান গবেষণা থেকে এটাও প্রকাশিত হচ্ছে যে আজকে উষ্ণায়নের যুগে দ্রুত এবং তীব্রভাবে খারাপ আবহাওয়া আবির্ভূত হতে পারে। তীব্র বৃষ্টিও হতে পারে বারে বারে। আমাদের সমগ্র মানবজাতির নিয়ন্ত্রণহীন ভোগের চাহিদার ফল আজকের উষ্ণায়ণ। এই বিষয়ে অতি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের National Academy of Science এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে আমাদের কার্যকলাপের ফলে আমরা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছি যাতে একটা বিশেষ মাত্রা পেরিয়ে গেলে অতি তীব্র উষ্ণায়ণকে আমরা কিছুতেও আটকাতে পারবো না। এমন একটি অবস্থা হবে যাকে বলা হয় Hothouse earth – এটাতে আমাদের আবহাওয়া, জৈব সম্পদ, মানব সমাজ সব অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে – আমরা যদি নিজেদের জীবনযাত্রা সংযত না করি, তাহলে কয়েক দশকের মধ্যে এই অতি উত্তপ্ত অবস্থায় এই পৃথিবী পৌঁছে যেতে পারে। প্রত্যেকটি দেশেরই দায় বর্তায় যে জাতীয় এবং রাজ্য স্তরে সব রকম পরিকল্পনামূলক কাজে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে চলা। এটি যে কেরলে যৎসামান্যই হয়েছে তার অন্তত তিনটি উদাহরণ আছে।

কেরলের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ তার পশ্চিমের পর্বতমালা যার নাম Western Ghats এবং সমুদ্রের ধারে বালিয়াড়ি ঘেরা বহু লবনাক্ত জলের হৃদ বা lagoon. এর মধ্যে যেটি সবচেয়ে বড় তার নাম Vembanad Kol. এটি আসলে একটি জলাভূমি যার উত্তরভাগে নোনা জল এবং দক্ষিণভাগে মিষ্টি জলের অংশ আছে। মোট ১৫১২.৫ বর্গ কি মি এলাকা জোড়া এই জলাভূমি কেরলের মোট স্থল অংশের ২.৫ শতাংশ জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। পশ্চিম পর্বতমালার থেকে উদ্ভুত ১০টি নদীর জল এখানে আসে, এবং এর মধ্যে দিয়ে পশ্চিম দিকে গিয়ে আরব মহাসাগরের সঙ্গে মিশে যায়। এই জলাভূমিটিকে তিনটে ভাগে ভাগ করা হয় – ভেম্বানাদ হ্রদ, কুট্টানাড জলা এবং কোল জলাভূমি। আমাদের পূর্ব কলকাতার জলাভূমির সঙ্গে একই বছরে অর্থাৎ ২০০২ সালে রামসার জলাভূমি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল এটি। অসামান্য জীববৈচিত্র্যের আধার এই জলাভূমি এক সময় প্রকৃতি-বান্ধব পদ্ধতিতে মানুষের দ্বারা ব্যবহৃত হত। অসংখ্য পরিযায়ী পাখি, মাছ, জলজ প্রাণী, ম্যানগ্রোভ এবং জল সম্পদ এই রাজ্যের মানুষকে জীবিকা নির্বাহের উপায় করে দিত। কিন্তু যখন থেকে সরকার এখানের উন্নয়ন চিন্তা করতে গিয়ে জলাভূমিটির উপর ক্ষতিকারক পর্যটন ব্যবস্থা (eco-tourism)চালু করার সম্মতি দেয়, রাস্তা বানায়, তিনটি সেচ প্রকল্প তৈরী করে, নয়টি জল বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়, Greater কোচি শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য জল এবং কোচি শহরের রোজকার ময়লা জল অপরিশ্রুত অবস্থায় কয়েক মিলিয়ন লিটার করে জলাভূমিতে ঢেলে দেয়, তখন থেকেই ক্ষতির শুরু। প্রকৃতিকে অপব্যবহারের বিস্তৃত নজির রেখেছে কেরল সরকার বিভিন্ন ভাবে ।

পশ্চিমের পর্বতমালা যেহেতু পার্বত্য এলাকা, এখানে কিছু উন্নত পরিকল্পনার চিন্তা করলে, উপযুক্ত বিধি-নিয়ম মেনে মানুষের বসবাস তথা অন্যান্য কার্যকলাপ করা উচিত, যাতে এই এলাকার পরিবেশ-গত বৈশিষ্ট্য নষ্ট না হয়। আরব দেশগুলিতে কর্মসংস্থান পেয়ে প্রচুর সংখ্যক কেরলের লোক আশির দশক থেকে সেখানে যাওয়া শুরু করে এবং নব্বইয়ের দশকে সেই যাওয়াটা বেড়ে যায়। কাজ করে যে অঢেল অর্থ আসে তা তারা বাড়িতে পাঠায়। এই হঠাৎ হাতে পাওয়া অর্থ ব্যক্তিগত জীবনযাত্রাগুলিকে বিলাসবহুল করে তোলে। জলাভূমি বুজিয়ে উন্নয়নের কাজ হয়। নদীর প্লাবনভূমিতে বহুতল বাড়ি গজিয়ে ওঠে দ্রুতগতিতে। এমন কি পশ্চিম পর্বতমালা এলাকায় অত্যাধিক কয়লা খনি এবং পাথর খাদান প্রবল ভাবে ছাড়পত্র পায়। এতে এলাকার পরিবেশ বিপুল ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মাটি ধস নামার ঘটনা অনেক বেড়ে যায়। এই অবস্থায় বন্যা হলে মানুষ যে চরম বিপর্যস্ত হবে, সে বিষয়ে কি কোন সন্দেহের অবকাশ থাকতে পারে?

এর পরেও যে কেরল সরকারের বোধদয়ের কোন লক্ষণ নেই – তারা কন্সাল্টেন্ট সংস্থা KPMG কে নিযুক্ত করেছে বন্যা-মুক্ত কেরল কে ঢেলে সাজানোর জন্য। আমাদের রাজ্যে তৎকালীন সরকার কিছু বছর আগে পরিকল্পনামূলকভাবে গ্রাম বাংলা-কে ঢেলে সাজানোর জন্য কন্সাল্টেন্ট McKinsey and Company কে রিপোর্ট লিখতে বলেছিল। তারা সরকারের বহু টাকা খরচ করিয়েছিল বটে, কিন্তু তাতে মানুষের বেঁচে থাকার পদ্ধতিতে কোন কল্যাণমূলক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। অথচ তারই পাশাপাশি গত কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা নিযুক্ত অভিজ্ঞ অধ্যাপক মাধব গ্যাডগিলের নেতৃত্বে Western Ghats Ecology Expert Panel এর দ্বারা এই এলাকার ছটি রাজ্যের জন্য তৈরি একটি রিপোর্টকে গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কেরল। এই রিপোর্ট পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এলাকার প্রকৃতি, পরিবেশ এবং মানব সমাজের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত বিজ্ঞানীদের দ্বারা তৈরি। রিপোর্ট তৈরির সময় সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এলাকার মানুষের বিস্তারিত মতামত নিয়ে পশ্চিম পর্বতমালার তথা তার সংলগ্ন ছটি রাজ্যের পরিবেশ-কে সুরক্ষিত রাখার পরিকল্পনার সূচনা করা হয়েছিল ২০১১ সালে। রাজ্যগুলি হল গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্ণাটক, কেরল ও তামিল নাড়ু। পশ্চিম পর্বতমালাকে বিভিন্ন রাজ্য তাদের শিল্প- সংযুক্ত কাজের জন্য – বিশেষ করে এই পর্বতমলা থেকে খনিজ সম্পদ নিঃশেষ করে নেবার জন্য – অনেক দিন ধরে ব্যবহার করে আসছিল এবং এর ফলে এলাকার বহু ক্ষতি হচ্ছিল। বলাই বাহুল্য সস্তায় পাওয়া মুনাফা ছেড়ে দিতে কোন রাজ্যই রাজি ছিল না – কেরল তো কখনই না। আজ এই তাচ্ছিল্যের একটা চড়া দাম দিচ্ছে কেরল, এবং সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রবীণ বৈজ্ঞানিক মাধব গ্যাডগিল বলেছেন যে এই করুণ পরিণতি অদূর ভবিষ্যতে গোয়ারও হবে। পূর্বতন এবং বর্তমান – কোন কেন্দ্রীয় সরকারই গ্যাডগিল কমিটির রিপোর্ট-কে পরিবেশের এবং জণকল্যাণের স্বার্থে কাজে লাগাতে রাজি হয়নি।

আমাদের প্রাকৃতিক জল সম্পদ ব্যবহার করার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা অবশ্যই জরুরি, অত্যাধিক অপব্যবহারে ক্ষতি শেষ পর্য্যন্ত আমাদের জণসাধারণেরই হবে। আমরা দেশের জল সম্পদকে দ্রুত নিঃশষিত করে ফেলছি এবং কেরলেও অদূর ভবিষ্যতে জলের অভাব দেখা দেবে। এই অভাব দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকারের স্তরে অনেক দিন ধরে পরিকল্পনা চলছে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে অনেক টাকা খরচ করে দেশের সব নদীকে একে অপরের সাথে জুড়ে দেওয়ার। এই মর্মে গাঙ্গেয় উপত্যকায় কেন এবনহ বেত্বা নদীকে দিয়ে এই কাজ শুরু হবার কথা। এই বিতর্কিত পরিকল্পনা এই ভাবে পৃথিবীতে আর কোথাও ভাবা হয়নি- কিন্তু তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিপদের কোন আশঙ্কা নেই। এই ধরণের কাজ সফল হবে কিনা – অর্থাৎ জল সম্পদ সত্যই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানাতরিত করা যায় কিনা – এটা বোঝবার সব চেয়ে পরিষ্কার উপায় water resource and rainfall modeling – অর্থাৎ জল সম্পদ এবং বর্ষা সম্পর্কে বর্তমানে যা সব তথ্য আছে তা একত্র করে অঙ্ক কষে মডেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখতে হয়, যা পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা সফল হতে পারবে কিনা। বছর দুয়েক আগে IIT Bombay তে ঠিক এই কাজটাই হয়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল যে বর্ষা এবং বৃষ্টির যে পরিবর্তনশীলতা লক্ষ করা যাচ্ছে, তাতে বিভিন্ন নদীকে জুড়ে দিয়ে দেশের জল সঙ্কট দূর করবার নিশ্চয়তাই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। এই গবেষণার তাৎপর্য সরকারি এবং প্রশাসনিক মহলে কেন্দ্রীয় তথা রাজ্য স্তরে বোঝা খুবই জরুরি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার যুক্তিগ্রাহ্যতা সম্পর্কে যাচাই না করে প্রকৃতিকে পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।

বিজ্ঞানকে না মেনে, তথ্যের দ্বারা সমৃদ্ধ না হয়ে, কেবল নিজেদের ক্ষুদ্র এবং অসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা পরিচালিত হলে কোন সরকারই প্রাকৃতিক বিপদের মুখে সুরক্ষিত থাকতে পারবে না। উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রকৃতির পাঠানো সূচক চিহ্ন মেনে নিয়ে তবেই করা যাবে। তা না হলে কেরলের উপর আছড়ে পড়া বিপদ বার বার ফিরে আসবে, তার থেকে আমরা মুক্তি পাব না।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ছবি : ইন্টারনেট

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s